বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫

 অদৃশ্য আগুন

তোমার চোখে আমি দেখেছি,
নিবিড় এক আলো—
যেন শান্ত নদীর তলায় গোপন জ্বালা,
যার ছোঁয়ায় রাত জেগে ওঠে নীরব আগুনে।

তুমি জানো না হয়তো—
তোমার হাসির নীচে লুকানো সেই স্পন্দন,
একটি কঠিন হ্রদয়ের বরফ গলিয়ে দেয়
মৃদু, ধীরে, নিঃশব্দে।

আমি চেয়েছিলাম ছুঁতে তোমার হাত,
শুধু মুহূর্তখানি—
কিন্তু ভয় পেয়েছি,
যদি তোমার চোখে অপরাধ দেখি,
যদি তোমার নীরবতা আমার দোষ হয়ে যায়।

তবু বিশ্বাস করো,
এই আকুলতা পাপ নয়—
এ শুধু এক অনন্ত টান,
যা দুই প্রাণের মাঝে সেতু গড়ে
অজানার দরজায়।

তুমি যদি একবার বলো—
“এসো,”
তবে এই আগুন শান্ত হবে না,
বরং আলো হয়ে জ্বলে উঠবে
আমাদের দু’জনার ভেতরেই।

শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫

Kobita

 

“না থাকার চেয়ে থেকে না থাকাটা অনেক কষ্টে”

থাকে পাশে, তবু থাকে না কেমন থাকা?
নীরবতার চাদরে ঢাকা, ভালোবাসাহীন ভালোবাসা।
চোখে চোখ পড়ে, কিন্তু মন খুঁজে না আশ্রয়,
শুধু অভিনয়ের আবরণে গুমরে ওঠে স্বপ্নসয়।

ঘরে সবাই, তবু ঘর যেন শ্মশানের মতো নিঃস্তব্ধ,
কথা হয়, তবু সেই কথাগুলো লাগে শুধুই কঠিন শব্দ।
থাকলে যদি স্পর্শ না পাই, যদি না পাই আপন নাম,
তবে সে থাকা কিসের? যেন কাঁটার তলায় ঘুমের দাম।

একাকী থাকা সহজ, জানি
কিন্তু চারপাশে ভীড়েও যদি কেউ না থাকে, ওটাই তো সবচেয়ে বড় হানি।
যার মা আছে, ডাকে না;
যার ভাই আছে, ভাবে না;
যার সমাজ আছে, দেখে কেবল দামি জামা।

এই থেকেও না থাকাবুকে পাথরের ভার,
জীবনটা তখন হয়ে ওঠে এক বোবা হাহাকার।
জানালার ধারে দাঁড়িয়ে দেখি,
আকাশ আছেতবু রোদ নেই, বাতাস বয়তবু মন সিক্ত হয় না বৃষ্টি-জলে লিখি।

জীবনের কাছে তখন প্রশ্ন জাগে,
এই থাকা কি উপহার, না এক চিরস্থায়ী জ্বালা রাগে?”
তাই বলি, না থাকার চেয়ে থেকে না থাকাটাই কষ্টে ভরা,
হৃদয়ে জমা অভিমান, ভালোবাসার দীর্ঘ বেহিসেবি ধরা।